জলবায়ু পরিবর্তনে দুর্যোগ ঝুঁকিতে কয়রার ৩ লাখ মানুষ
রিয়াছাদ আলী,
কয়রা প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলীয় অঞ্চল কয়রা এলাকায় অতি মাত্রায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে চরম উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে জনগণ। গত তিন দশকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদগুলো ল-ভ- হয়েছে। গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে একদিকে যেমন সমুদ্র পৃষ্ঠের তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নদ-নদীর নাব্যতা হারিয়ে গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রের পানি উপকূলীয় এলাকায় উপচে পড়ছে। যে কারণে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় কয়রাসহ এ সকল এলাকার লাখ লাখ মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
সূত্রমতে, ১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর সুন্দরবন উপকূলে প্রলয়ংকরী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল খুলনা চট্রগ্রাম কক্সবাজার অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী ও খুলনা উপকুলে সিডরের তা-ব এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা, সাতক্ষীরা উপকূলে আইলার ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে গোটা উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। এর সাথে নতুন মাত্রায় নদী ভাঙন যোগ হয়ে ল-ভ- করে দিচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও শ্যামনগর এলাকায় প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপর্যুপোরি নদী ভাঙন কেড়ে নিচ্ছে শত শত একর কৃষি জমি, বসতভিটা, চিংড়ি ঘের ও রাস্তাঘাট। দিন যতই পার হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ততই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে জমি জায়গা হারিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস কমাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। জলবায়ু ফান্ডের অর্থায়নে সরকার উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা মাফিক বেড়িবাঁধ করা হলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। জানা গেছে, সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থাগুলো অনেক সংস্থার মাধ্যমে বাঁধ সংস্কার, কাঁচা রাস্তা নির্মাণ, ঝড় সহনশীল ঘর তৈরি, পয়ঃনিষ্কাশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, গভীর অগভীর নলকূপ স্থাপন, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা দেশের উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ঝড় জলোচ্ছ্বাস জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে কিছুটা রেহাই পাবে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীর কিনার ড্যাম্পিং করে বেড়িবাঁধে ব্লক বসানোর কারণে নদী ভাঙন কিছুটা কমেছে। উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের বাস্তবায়নাধীন চলমান প্রকল্প চালু থাকলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এ অঞ্চলের জনসাধারণের জানমাল অনেকটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আখম তমিজ উদ্দীন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ব্যাপক ক্ষতির দিকটি বিবেচনায় এনে টেকসই প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন